শিরোনাম :
হাজারীবাগে ওএমএস পণ্য গুদামে, এআরও কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ ফোনে ডাটা না থাকলেও কি ফ্রিতে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ? যা জানা গেল তারারদেশ লিমিটেড পরিদর্শনে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দল বগুড়ায় সপ্তস্বর শিল্পীগোষ্ঠীর ২৪তম বর্ষপূর্তি উদযাপন কালীগঞ্জের শিবির কর্মী শামীম হত্যা মামলার আসামী ইমরান আলম এখন মহেশপুর থানার ওসি শিবগঞ্জে ৮ মাসে ৫ বিয়ে করা স্বামীর বর্বরতা: গৃহবধূকে পিটিয়ে ও চাকু দিয়ে হাত কেটে জখম, থানায় অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহের ট্রাফিক সিগন্যাল প্রকল্প আ.লীগ ভারত থেকে আনা ১৩৫ টন চাউলে মিললো বি-ষা-ক্ত উপাদান নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুই সেতু থেকে ৯৫ কোটি টাকা আদায় করে সরকারি কোষাগারে ৪২ কোটি টাকা জমা ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের ডিডি ছালেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দৈনিক ১০ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ন

সাত মাসে নিখোঁজ ১৫,৭১৭, এখনো সন্ধান মেলেনি ২,০৩৮ জনের

শাহরিয়ার শান্ত / ৬৬ বার পাঠ করা হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | শাহরিয়ার শান্ত | Firstpost

বাংলাদেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। নিখোঁজ হওয়ার পর অনেক শিশু পরিবারের কাছে ফিরে এলেও এখনো বহু শিশুর সন্ধান পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, নিখোঁজের পর শিশুদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও জনমনে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিখোঁজের প্রতিটি ঘটনার যথাযথ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।

সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজের তথ্য

বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে সারা দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে অথবা তারা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। তবে এখনো ২ হাজার ৩৮ শিশুর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

গত ৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদর দপ্তর সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে এসব পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। পুলিশ জানায়, নিখোঁজ শিশুদের পরবর্তী অবস্থা উল্লেখ না করে শুধু নিখোঁজের সংখ্যা প্রকাশ করলে পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায় না। �

 

আট মাসে ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধারের তথ্য

 

দৈনিক ইত্তেফাকে ২০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যের বরাতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে নিখোঁজের পর ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে। একই প্রতিবেদনে বিভিন্ন ঘটনায় শিশুদের হত্যা, নির্যাতন ও অন্যান্য সহিংসতার শিকার হওয়ার বিষয়টিও উঠে এসেছে। �

তবে নিখোঁজ শিশুদের পরিসংখ্যান এবং মরদেহ উদ্ধারের সংখ্যা দুটি ভিন্ন সময়সীমা ও ভিন্ন হিসাবের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। তাই এই সংখ্যাগুলোকে একই সময়ের পরিসংখ্যান হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

কেন নিখোঁজ হচ্ছে শিশুরা?

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছোট শিশুরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে গিয়ে পথ হারানো কিংবা নিজের পরিচয় ও ঠিকানা বলতে না পারার কারণে নিখোঁজ হতে পারে।

অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে পারিবারিক কলহ, অভিমান, পড়াশোনার চাপ, বন্ধুদের প্রভাব এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরার আকাঙ্ক্ষার মতো কারণ উঠে এসেছে। তবে প্রতিটি ঘটনার কারণ আলাদাভাবে তদন্ত করে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। �

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি

শিশু নিখোঁজের প্রতিটি ঘটনা একটি পরিবারের জন্য গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার কারণ। নিখোঁজ শিশুকে দ্রুত খুঁজে বের করার পাশাপাশি শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে শিশু নিখোঁজের প্রকৃত কারণ, উদ্ধার কার্যক্রম এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে আরও অনুসন্ধান প্রয়োজন।

প্রশ্ন হচ্ছে, নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত খুঁজে বের করা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ কতটা কার্যকর হচ্ছে?

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়; এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র, প্রশাসন ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা রয়েছে।

প্রতিবেদক: শাহরিয়ার শান্ত

তিষ্ঠান: Firstpost

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর, প্রথম আলো, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও দৈনিক ইত্তেফাক


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর