শিরোনাম :
কেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না আমদানি করা ফলের দাম? তাজমীন হত্যা: হোটেলকর্মী রাজু গ্রেফতার, মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিস থেকে মুক্তি পেতে করণীয় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা তিন দিন দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তবে ১৭ অক্টোবর শনিবার ব্যাংকগুলো স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী খোলা থাকবে। সাভারে ৪ সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও মিথ্যা মামলায় কারাগারে প্রেরণের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন পাকিস্তানের প্রদেশ ভাগের পরিকল্পনা আসিম মুনিরের কী ঘটেছিল প্রীতম-শেহতাজের মধ্যে? সালমানের নামে তৈরি হচ্ছে ‘দ্য সালমান টাওয়ার্স’ হঠাৎ এলোমেলো বাংলাদেশ, ৪ রানে নেই ৩ উইকেট ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করল বিসিবি
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন

কেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না আমদানি করা ফলের দাম?

শাহরিয়ার শান্ত / ৩২ বার পাঠ করা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

চাহিদা বিবেচনায় চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা মূল্যের ৪ লাখ ১২ হাজার মেট্রিক টন ফল আমদানি হয়েছে। তারপরও নিয়ন্ত্রণে আসছে না বিদেশি ফলের দাম। ব্যবসায়ীদের দাবি, ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং আমদানি করা ফলের ওপর ১২২ শতাংশের বেশি শুল্ক আরোপের কারণে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকছে এসব ফলের দাম।

চট্টগ্রাম বন্দরের কয়েকটি নির্ধারিত ইয়ার্ডে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে আমদানি করা ফলসহ পচনশীল পণ্যবাহী রেফার কনটেইনার। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুধু চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েই আপেল, কমলা, আঙুর, মাল্টাসহ বিভিন্ন ধরনের ৪ লাখ ১২ হাজার মেট্রিক টন ফল আমদানি হয়েছে। এসব ফলের আমদানি মূল্য প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, ‘প্রতি কেজি ফলের মূল্য ৮০ সেন্ট ধরে শুল্কায়ন করা হয়। মূলত ডেটাবেস ভ্যালু ও ইনভয়েস ভ্যালু যাচাই-বাছাই করে সরকারের রাজস্ব সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেই শুল্কায়ন করা হয়।’

আমদানি করা ফলের প্রতি কেজির মূল্য ৮০ সেন্ট ধরে শুল্কায়ন করে কাস্টম হাউজ। এর ওপর ২৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি, ২০ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি, ৩০ শতাংশ সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি, ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আদায় করা হয়। সব মিলিয়ে টোটাল ট্যাক্স ইনসিডেন্স (টিটিআই) বা মোট করের হার দাঁড়ায় ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ, ১০০ টাকার আমদানি করা ফলের বিপরীতে শুল্ক-কর দিতে হয় প্রায় ১২২ টাকা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, শুল্ক-কর ছাড়াও টাকার বিপরীতে ডলারের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় আমদানি খরচ বেড়েছে। ফলে বিদেশি ফলের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসছে না।

চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল আলম বলেন, ‘ফল একটি কাঁচামাল। সরবরাহ বেড়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই দাম কমে যায়, আর সরবরাহ কম হলে দাম বেড়ে যায়। কৃত্রিমভাবে ফলের দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।’

দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ভারত, থাইল্যান্ড ও মিশরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে এসব ফল আমদানি করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ‘আমদানিকারকরা আমদানির ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন। বিভিন্ন ধরনের শুল্ক ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের পর ফলগুলো বন্দর থেকে খালাস হয়ে বেরিয়ে যায় এবং বাজারে পৌঁছায়।’

২০২৫ সালের পুরো বছরে ফল আমদানি থেকে ৫ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছিল কাস্টম হাউজ। এর বিপরীতে চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসেই রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে বিদেশ থেকে আমদানি করা ফল বোঝাই ৬০০টির বেশি বিশেষায়িত রেফার কনটেইনার রয়েছে। প্রতিটি কনটেইনারে আছে ২৫ থেকে ২৭ মেট্রিক টন ফল। এসব কনটেইনার দ্রুত খালাস করে বাজারে সরবরাহ করা গেলে বিদেশি ফলের বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর